|
|
তারাবী ও তাহাজ্জুদ এক নামায নয় বরং ভিন্ন ভিন্ন নামায তার ২৪ টি প্রমাণ দলিল সহ নিচে দেয়া হলো।
Â
নামধারী আহলে হাদীসের কাজই হচ্ছে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ইবাদতের মধ্যে কাট সার্ট করা যেমন তারা বিশ রাকাত তারাবীকে অস্বীকার করে আট রাকাত তারাবী বানিয়েছে অথচ আট রাকাত তারাবীর কোন প্রমাণ কোন সহীহ হাদীসে নেই । তারা তাহাজ্জুদের হাদীস দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বলে এটা তারাবীর হাদীস। তাদের এই ধোঁকার কথা যখন হক্কানী আলেম গণ দলিল প্রমাণ দিয়ে ফাঁস করে দিলেন তখন তারা আরেকটি প্রতারণার আশ্রয় নিলেন যে, তারাবী ও তাহাজ্জুদ একই নামায। যেমন নামধারী আহলে হাদীসদের আমীর আসাদুল্লাহ গালিব তার রচিত নামায বইয়ে লিখেছে “রাত্রির বিশেষ নফল ছালাত তারাবী ও তাহাজ্জুদ নামে পরিচিত। রমযানে এশার পর প্রথম রাতে পড়লে তাকে তারাবীহ আর রমযান অন্যান্য সময়ে শেষ রাতে পড়লে তাকে তাহাজ্জুদ বলে।
সূত্রঃ {ছালাতুর রাসূল [সা]-১৭১}
Â
নামধারী আহলে হাদীসদের লেখা যে কোন তারাবী সংক্রান্ত বই খুলে দেখুন তারাবী ও তাহাজ্জুদকে একই নামায বলা হয়েছে। তারাবীহ তাহাজ্জুদকে এক নামায বলা মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়। তারাবী ও তাহাজ্জুদ সম্পূর্ণই ভিন্ন দু’টি নামায। আমরা পরিস্কার কিছু পার্থক্য তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ বিষয়ে নিম্নে উপস্থাপন করছি।
Â
১-দু’টির শরয়ী উৎস আলাদা!
Â
তাহাজ্জুদ নামায কুরআন দ্বারা প্রমাণিত। যথা পবিত্র কুরআনের আয়াত-
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَّكَ عَسَىٰ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَّحْمُودًا [١٧:٧٩]
রাত্রির কিছু অংশ কোরআন পাঠ সহ জাগ্রত থাকুন। এটা আপনার জন্যে অতিরিক্ত। হয়ত বা আপনার পালনকর্তা আপনাকে মোকামে মাহমুদে পৌঁছাবেন। {আলইসরা-৭৯}
Â
আর তারাবী নামায রাসূল সাঃ এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন-
شَهْرٌ كَتَبَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، وَسَنَنْتُ لَكُمْ قِيَامَهُ،
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন এটি এমন মাস যাতে আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য রোযাকে ফরজ করেছেন, আর আমি তোমাদের জন্য এর রাতের নামাযকে সুন্নত করেছি। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৩২৮, সুনানে নাসায়ী, হাদীসস নং-২২১০}
Â
সুতরাং দু’টি এক নামায হয় কি করে?
Â
২-মাশরূ তথা শরীয়ত সিদ্ধ ইবাদত হবার স্থানও আলাদা!
Â
তাহাজ্জুদ মক্কায় থাকা অবস্থায় শরীয়ত সিদ্ধ ইবাদত সাব্যস্ত হয়, আর তারাবী মাশরূ হয় মদীনায়।
তাহলে এক কিভাবে হল?
Â
৩-সময়কালও আলাদা!
Â
তাহাজ্জুদ মাশরূ হয় হিজরতের আগে। আর তারাবী হয় হিজরতের পর।
Â
৪-মাশরূ হবার পদ্ধতিও ছিল ভিন্ন!
Â
তাহাজ্জুদ প্রথমে ফরজ ছিল। অনেক দিন পর্যন্ত তা ফরজই ছিল। তারপর তার ফরজিয়্যাত রহিত হয়ে নফল হয়ে যায়।
قُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، حَدِّثِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: «أَلَسْتَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ؟ فَإِنَّ خُلُقَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ الْقُرْآنَ» قَالَ: قُلْتُ: حَدِّثِينِي عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ، قَالَتْ: ” أَلَسْتَ تَقْرَأُ: يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ؟ “، قَالَ: قُلْتُ: بَلَى، قَالَتْ: «فَإِنَّ أَوَّلَ هَذِهِ السُّورَةِ نَزَلَتْ، فَقَامَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ، وَحُبِسَ خَاتِمَتُهَا فِي السَّمَاءِ اثْنَيْ عَشَرَ شَهْرًا، ثُمَّ نَزَلَ آخِرُهَا، فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ فَرِيضَةٍ
হযরত সাদ বিন হিশাম রহঃ বলেন, আমি বললাম! হে উম্মুল মুমিনীন! আপনি আমাকে রাসূল সাঃ এর আখলাক চরিত্র বিষয়ে কিছু বলুন। আম্মাজান আয়শা রাঃ বলেন, তুমি কি কুরআন পড়ো না? রাসূল সাঃ এর আখলাক চরিত্র কুরআনে যা আছে তাই ছিল। তারপর সাদ বলেন, আপনি আমাকে রাসূল সাঃ এর রাতের নামাযের ব্যাপারে বলুন। তখন আম্মাজান আয়শা রাঃ বলেন, তুমি কি “ইয়া আইয়্যুহাল মুজ্জাম্মিল” পড়ো না? হযরত সাদ বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ আমি পড়িতো। আম্মাজান আয়শা রাঃ বলেন, এ সূরার যখন প্রথমাংশ নাজিল হয়, [যাতে তাহাজ্জুদ ফরজ হয়] তখন সাহাবায়ে কেরাম এত দীর্ঘ তাহাজ্জুদ পড়তেন যে, তাদের পা ফুলে যেতো। আর এ সূরার শেষাংশ বারমাস পর্যন্ত আসমানে আটকে থাকে। বার মাস পর যখন এর শেষাংশ নাজিল হয়, তখন যে তাহাজ্জুদ ফরজ ছিল তা নফল হয়ে যায়। {সুনানে আবু দাউদ-১/১৮৯-১৯৯}
Â
এ হাদীস দ্বারা তিনটি বিষয় পরিস্কার বুঝে আসছে। যথা-
Â
১-তাহাজ্জুদদের মাশরূয়িয়্যাত কুরআন দ্বারা হয়েছে।
Â
২-তাহাজ্জুদের মাশরুয়িয়্যাত মক্কায় হয়েছে। কারণ সূরা মুজ্জাম্মিল মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।
Â
৩-তাহাজ্জুদ প্রথমে ফরজ ছিল। এক বছর পর্যন্ত ফরজ থাকার পর তা নফল হয়েছে।
Â
কিন্তু তারাবী শুরু থেকেই ছিল সুন্নত।
Â
তাহলেই দু’টি এক নামায হল কিভাবে?
Â
৫-হুকুমের দিক থেকেও ভিন্ন
Â
তাহাজ্জুদ নামায নফল। বা সুন্নতে গায়রে মুআক্কাদা। যা আমরা ইতোপূর্বের হাদীস দ্বারা পরিস্কার জানতে পেরেছি। আর তারাবীহ নামায হল সুন্নতে মুআক্কাদা।
Â
সৌদী আরবের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্য হিসেবে পঠিত “আররওজুল মুরবি” গ্রন্থে এসেছে-
والتراويح سنة مؤكدة
তথা তারাবী নামায সুন্নতে মুআক্কাদা। {আরওজুল মুরবি-৬৫}
Â
একই বক্তব্য প্রদান করছেন প্রসিদ্ধ হাদীস বিশারদ আল্লামা মোল্লা আলী কারী রহঃ। তিনি লিখেছেন-
والحاصل ان الأصح فيها انها سنة مؤكدة
তথা সবচে বিশুদ্ধতম কথা হল, তারাবীহ নামায সুন্নতে মুআক্কাদা। {শরহুন নুকায়া-১/৩৪১}
Â
চার মাযহাবের ফিক্বহের গ্রন্থেই একই বক্তব্য এসেছে-
Â
ক) আলবাহরুর রায়েক-১/১১৭। খ) আলমুহাজ্জাব-১/৮৪। গ)হুলয়াতুল উলামা-২/১১৯। ঘ)আলইক্বনা-১/১১৭, ঙ) নিহায়তুজ জাইন-১/১১৪। চ) আলফুরূহ-১/৪৮৮। ছ) আলমুগনী-১/৭৯৭ ইত্যাদি।
Â
৫–জামাত ও গায়রে জামাত
Â
তাহাজ্জুদে আসল হল জামাত না হওয়া। আর তারাবীহে জামাত পড়াই উত্তম। দেখুন {আররওজুল মুরবি-৬৫}
Â
প্রথমে প্রসিদ্ধ হাদীসটি দেখে নেই
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ؟ قَالَتْ: مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا، فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ تَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ؟ قَالَ: «تَنَامُ عَيْنِي وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي
Â
হযরত আবু সালমা বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত তিনি আয়েশা রাঃ এর কাছে জানতে চান নবীজী সাঃ এর নামায কেমন হত রামাযান মাসে? তিনি বললেন-রাসূল সাঃ রামাযান ও রামাযান ছাড়া ১১ রাকাত থেকে বাড়াতেন না। তিনি ৪ রাকাত পড়তেন তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জানতে চেওনা। তারপর পড়তেন ৪ রাকাত তুমি এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা বিষয়ে জানতে চেওনা, তারপর পড়তেন ৩ রাকাত। হযরত আয়েশা রাঃ বলেন-তখন আমি বললাম-হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি বিতর পড়ার পূর্বে শুয়ে যান? তিনি বললেন-হে আয়েশা! নিশ্চয় আমার দু’চোখ ঘুমায় আমার কলব ঘুমায়না। (সহীহ বুখারী-১/১৫৪)
Â
উক্ত হাদীসে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করে রাখুন। যথা-
Â
১-এ হাদীসের আলোচ্য হল রমজান ও গায়রে রমজান তথা সারা বছরে পড়া রাতের নামায বিষয়ে।
Â
২-যে নামায রাসূল সাঃ চার রাকাত করে পড়তেন।
Â
৩-আট রাকাত পড়তেন সারা বছর।
Â
৪-শেষে এসে রাসূল সাঃ তিন রাকাত বিতর পড়তেন।
Â
৬–রমজান ও গায়রে রমজান
Â
উপরোক্ত হাদীসে যে নামাযের কথা বলা হয়েছে রমজান ও গায়রে রমজান তথা সারা বছরের নামাযের কথা বর্ণিত হয়েছে। সেটি হল তাহাজ্জুদ। অর্থাৎ তাহাজ্জুদ হল সারা বছর পড়া নামায। আর তারাবীহ শুধু রমজানে পড়া হয়।সারা বছর পড়ার নামায আর শুধু এক মাস তথা রমজানে পড়া নামায এক হয় কি করে?
Â
যেমন ইশরাকের নামায সারা বছর পড়া হয়, আর দুই ঈদের নামায কেবল বছরের দুই দিন পড়া হয়। এ দু’টি নামায কি এক হতে পারে? বরং তা আলাদা নামায। যোহরের নামায প্রতিদিন পড়া হয়, আর জুমআর নামায সপ্তাহে একদিন পড়া হয়। তাহলে এ দু’টি নামায এক হতে পারে কি? তা আলাদা আলাদা নামায পরিস্কার। ঠিক একইভাবে তাহাজ্জুদ হল সারা বছরের নামায, আর তারাবীহ হল শুধু রমজানের নামায, সুতরাং এটিও আলাদা আলাদা নামায।
Â
৭-পড়ার পদ্ধতির ভিন্নতা
Â
হযরত আয়শা রাঃ এর হাদীস দ্বারা তাহাজ্জুদ নামায চার রাকাত করে পড়ার কথা উল্লেখ হয়েছে। অথচ তারাবীহ নামায দুই রাকাত করে পড়া সুন্নত। দেখুন সৌদী আরবের শিক্ষা সিলেবাস অন্তর্ভূক্ত বই “আররওজুল মুরবি” গ্রন্থ-৬৫}
Â
এছাড়া চার মাযহাবের ফিক্বহের গ্রন্থগুলো দেখলেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে। তাহলে চার রাকাত করে পড়া নামায আর দুই রাকাত করে পড়া নামায এক হয় কি করে?
Â
৮–ঘুমের বিশ্রাম
Â
হযরত আয়শা রাঃ এর হাদীস দ্বারা বিতর ও তাহাজ্জুদের মাঝে রাসূল সাঃ এর ঘুমানো প্রমাণিত। কিন্তু রাসূল সাঃ থেকে তারাবীহ ও বিতরের মাঝে ঘুমানো প্রমাণিত নয়। কেননা, হাদীসে এসেছে-
Â
عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم أنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل رمضان شد مئزره ثم لم يأت فراشه حتى ينسلخ
Â
রাসূল সাঃ এর সম্মানিতা স্ত্রী হযরত আয়শা সিদ্দিকা রাঃ ইরশাদ করেনঃ যখন রমজান মাস আসে, তখন রাসূল সাঃ কোমর বেঁধে ফেলেন। তিনি তার বিছানায় আর ফিরে আসতেন না রমজান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত। {সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৩৪২, শুয়াবুল ঈমান-৩/৩১০, হাদীস নং-৩৬২৪}
Â
তাহলে যে নামাযের মাঝে ঘুমানো প্রমাণিত আর যাতে প্রমাণিত নয় তা এক নামায হয় কি করে?
Â
৯–“মান ক্বামা রমজানা” হাদীস সংক্রান্ত
Â
“মান ক্বামা রমজানা” তথা যে হাদীসে এসেছে যে, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন “যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে সওয়াব পাবার আশায় নামায পড়বে তার পূর্বের গোনাহ মাফ হয়ে যাবে” মর্মের হাদীসটি কোন মুহাদ্দিস তাহাজ্জুদ অধ্যায়ে আনেননি। সবাই এনেছেন তারাবীহ অধ্যায়ে। যদি তারাবী তাহাজ্জুদ এক নামায হতো তাহলে এ হাদীস তাহাজ্জুদ অধ্যায়ে কেন মুহাদ্দিসরা আনেননি?
Â
১০-জামাতের উৎসাহ দান
Â
তারাবীহ নামায রাসূল সাঃ নিজেও জামাতে পড়েছেন, এবং অন্যকে পড়তে দেখে খুশি হয়েছেন। দেখুন-কিয়ামে রমজান লিলমারওয়াজী-১৫৫, ১৫৩}
Â
কিন্তু তাহাজ্জুদ নামায জামাতে পড়েছেন বা সাহাবায়ে কেরাম জামাতে তাহাজ্জুদ নামায পড়েছেন তার কোন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না।
তাহলে দুই নামায এক হল কিভাবে?
Â
১১-কুরআন খতম
Â
তারাবীহ নামাযে পুরো কুরআন খতম করার বিষয়টি খুলাফায়ে রাশেদীন থেকে প্রমাণিত। কিন্তু তাহাজ্জুদ নামাযে এভাবে প্রমাণিত নয়।
Â
১২-রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট
Â
তাহাজ্জুদের রাকাত নির্দিষ্ট নয়। যে যতটুকু ইচ্ছে পড়তে পারে। দুই, চার, ছয়, আট, দশ। কিন্তু তারবীহের রাকাত সংখ্যা উভয় দলের কাছেই নির্দিষ্ট আমাদের কাছে বিশ রাকাত, আর লামাযহাবীদের কাছে আট রাকাত। তাহলে রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট আর অনির্দিষ্ট নামায এক হয় কি করে?
Â
১৩-বিতরের জামাত
Â
তারাবীহের পর বিতরের জামাত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত। কিন্তু তাহাজ্জুদের পর বিতরের জামাতের কোন প্রমাণ নেই। তাহলে দুই নামায এক কিভাবে?
Â
১৪-ইসলামের প্রতীক
Â
তারাবীহ নামায শিয়ারে ইসলাম। দেখুন আসাদুল্লাহ গালিবের লেখা ছালাতুর রাসূল-১৭৩, নাইলুল আওতার-২/২৯৫, শরহে আবু দাউদ লিলআইনী-২৭৫, শরহে নববী আলা মুসলিম-৩/১০১, ১২৮, ১৩২, মিরকাত-৪/৩১৪, ৩১৬, ইহয়ায়ে উলুমিদ্দীন-১/৩৯০ ইত্যাদি।
Â
কিন্তু তাহাজ্জুদ নামায শিয়ারে ইসলামের অন্তর্ভূক্ত এরকম কোন বক্তব্য কোন মুহাক্কিক, মুহাদ্দিস ফক্বীহ প্রদান করেননি।
Â
১৫-আদায়ের সময় আলাদা
Â
তাহাজ্জুদ আদায়ের উত্তম সময় হল শেষ রাত। আর তারাবীহ আদায় করা হয় ইশার নামাযের পর পর। যা পরিস্কার প্রমাণ করে এ দু নামায এক হতে পারে না। এক নামায আরেক নামায থেকে পৃথক করা হয় সময়ের দূরত্বের মাধ্যমে। যেমন জোহরের চার রাকাত আর আসরের নামায আলাদা নামায বুঝা যায় সময়ের দূরত্বের কারণে। সময়ের ভিন্নতার কারণে। তাহলে সময়ের ভিন্নতা আলাদা নামায হাবার প্রমাণ। তেমনি তারাবী তাহাজ্জুদ আলাদা নামায হবার পরিস্কার প্রমাণ হল তার আদায়ের সময়ের ভিন্নতা।
Â
১৬-নাম আলাদা
Â
ফরজ নামায, ইশরাক, আওয়াবিন তাহাজ্জুদ ইত্যাদি আলাদা নামই প্রমাণ করে এসবই আলাদা আলাদা নামায। তেমনি তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আলাদা নামও প্রমাণ করে এ দু’টি নামায এক নামায নয়।
Â
১৭-বর্ণনার অধ্যায় আলাদা
Â
মুহাদ্দিসীনে কেরাম তারাবীহ ও তাহাজ্জুদের জন্য আলাদা দু’টি অধ্যায় কায়েম করেছেন তাদের কিতাবে। যা পরিস্কার প্রমাণ করে এ দু’টি ভিন্ন নামায। এক নামায হলে দুই বাব তথা অধ্যায় কায়েম করার মানে কি? মুহাদ্দিসীনে কেরামের দু’টি নামাযের জন্য আলাদা বাব কায়েম করা পরিস্কার প্রমাণ করে এ দু’টি নামায আলাদা। এক নয়।
Â
১৮-রমজানের শর্ত
Â
রাসূল সাঃ এর জমানায় একবার চাঁদ দেখেনি অনেকে। তখন فارادوا ان لا يصوموا ولا يقوموا তথা তখন সবাই রোযা না রাখা ও তারাবীহ না পড়ার ইচ্ছে করে নেন সবাই। হঠাৎ করে এক গ্রাম্য ব্যক্তি এসে চাঁদ দেখার সংবাদ দেয়। তখন উক্ত ব্যক্তির ঈমান ও বিশ্বাসের সত্যতা যাচাইয়ের পর রাসূল সাঃ হযরত বিলাল রাঃ কে ঘোষণা দেবার জন্য হুকুম দেন- ان يصوموا وان يقوموا তথা রোযা রাখ এবং তারাবীহ পড়। {দারা কুতনী-২/১৫৯}
Â
উপরোক্ত হাদীস প্রমাণ করে তারাবীহের জন্য রমজান আবশ্যক। কিন্তু তাহাজ্জুদের জন্য তা আবশ্যক নয়। তাহাজ্জুদ সারা বছরই পড়া হয়।
Â
১৯–তাহাজ্জুদ ঘুমের পর
Â
তাহাজ্জুদ নামায ঘুমের পর ঘুম থেকে উঠে পড়া হয়। {তাফসীরে ইবনে আব্বাø
Categories: None
The words you entered did not match the given text. Please try again.
Oops!
Oops, you forgot something.